নাজিমুল হাসান (হবিগঞ্জ প্রতিনিধি): হবিগঞ্জের মাধবপুরে ক্যান্সার চিকিৎসার নামে এক নারীর পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক কথিত হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। পাঁচ মাস ধরে ওষুধ সেবনের পর রোগীর অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি, বরং পায়ের অবস্থা আরও খারাপ হওয়ায় এখন পা কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী মোছাঃ শারমিন আক্তার মাধবপুর উপজেলার ৪ নং আদাঐর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের কবিলপুর গ্রামের বাসিন্দা।
পরিবারের অভিযোগ, ফেসবুকে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখে তারা ‘ডা. এস.এম. সারোয়ার’ নামের ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি চার মাসের কোর্সে ক্যান্সার ভালো করার আশ্বাস দেন।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী:
প্রথম মাসে ৩৫ হাজার টাকা, পরবর্তী মাসগুলোতে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়।
পাঁচ মাস ধরে ওষুধ সেবন করেও শারমিনের পায়ের অবস্থার উন্নতি হয়নি। বরং এখন পায়ে বড় ধরনের ফোলা ও ক্ষত দেখা দিয়েছে। মাঝেমাঝে ক্ষত দিয়ে প্রচুর রক্তও বের হয়।
শারমিন আক্তার বলেন, “পা ভালো না হওয়ার কথা চিকিৎসককে জানালে তিনি একজন ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পা কেটে ফেলতে বলেছেন।”
শারমিনের শ্বশুর মোঃ জজ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “ভালো হয়ে যাবে এমন আশ্বাস দিয়ে আমাদের কাছ থেকে অনেক টাকা নেওয়া হয়েছে। এখন বলছে পা কেটে ফেলতে।”
এ ঘটনায় তিনি তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে ডা. এস.এম. সারোয়ারের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রোগীর পায়ের ক্ষত ও ফোলাভাব গুরুতর হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় পরিবারের উচিত দেরি না করে একজন নিবন্ধিত চিকিৎসক বা সার্জারি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া। পাশাপাশি কথিত চিকিৎসকের যোগ্যতা, নিবন্ধন ও চিকিৎসা দেওয়ার বৈধতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, চিকিৎসার নামে প্রতারণা হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।