শায়েস্তাগঞ্জপ্রতিনিধি: হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মোজাহের উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে টালবাহানার অভিযোগ উঠেছে। প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগের পরও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করে পুনরায় এডহক কমিটি গঠনের পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
জানা যায়, বিদ্যালয়টি বর্তমানে একটি এডহক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে এবং এ কমিটির মেয়াদও শেষের দিকে। ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০২৪ অনুযায়ী এডহক কমিটির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা।
এ লক্ষ্যে নির্বাচনের জন্য প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চুনারুঘাট ও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) কাওছার সুকরানা। তবে নিয়োগের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তফসিল ঘোষণা করা হয়নি।
অভিভাবকদের অভিযোগ, নিয়মিত কমিটি গঠনের উদ্যোগ না নিয়ে প্রধান শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিন বাবর পুনরায় এডহক কমিটি গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাদের দাবি, এডহক কমিটিতে সদস্য সংখ্যা কম থাকায় প্রধান শিক্ষকের প্রভাব বেশি থাকে। অন্যদিকে নিয়মিত কমিটিতে অভিভাবক, দাতা, শিক্ষানুরাগীসহ নির্বাচিত সদস্য থাকায় জবাবদিহিতা বাড়ে। আর এই জবাবদিহিতা এড়াতেই নিয়মিত কমিটি গঠনে অনীহা দেখানো হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী ধানু প্রধান শিক্ষকের আপন মামা এবং তিনি দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। তার সময়ে বিদ্যালয়ের তহবিল ও গাছ বিক্রির অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে এবং এ নিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা।
অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, ২০১৯ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আবু তাহের বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধান শিক্ষক মাইক বন্ধ করে দেন এবং তিনি বিভিন্ন দপ্তরে যাওয়ার সময় পোশাকে নৌকার প্রতীক সংবলিত ব্যাজ ব্যবহার করতেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রিসাইডিং অফিসার কাওছার সুকরানা বলেন, “আমি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষককে বারবার বলেছি। কিন্তু তিনি ঠিকমতো কাজ করছেন না। তফসিলের বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন না।”
অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক রিয়াজ উদ্দিন বাবর বলেন, “আমি সব কাগজপত্র জমা দিয়েছি। প্রিসাইডিং অফিসারই ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অভিভাবক ও এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করা হোক এবং অতীতের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে সিলেট শিক্ষা বোর্ড ও জেলা প্রশাসন হস্তক্ষেপ করুণ।