(চুনারুঘাট উপজেলা প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ) : হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে জামিনে মুক্ত হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই ফের গাছ কাটা ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে বন মামলার প্রধান আসামি কুদ্দুস মিয়ার বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে সাতছড়ি সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে মূল্যবান সেগুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে পাচার করা হচ্ছে।
চুনারুঘাটের ৪ নম্বর পাইকপাড়া ইউনিয়নের বদরগাজী এলাকার কাঁঠালবাড়ি গ্রামের আরজু মিয়ার ছেলে কুদ্দুস মিয়ার বিরুদ্ধে আগেই বন থেকে সেগুন গাছ চুরির অভিযোগে মামলা করেন শালটিলা বিট কর্মকর্তা মোহাইমিনুল ইসলাম সানি। মামলাটি বন মামলা সিআর-৪৩/২৬।
গত ২ আগস্ট আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান কুদ্দুস মিয়া। জামিনে বের হওয়ার পরই তার বিরুদ্ধে নতুন করে গাছ পাচারের অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, জামিনে মুক্তির পর কুদ্দুস মিয়ার নেতৃত্বে তার ছোট ভাই আক্কাসসহ আলমগীর, সারাজ, হারুন, সানু মিয়া, হৃদয় ও রুবেলের সমন্বয়ে একটি চক্র সাতছড়ি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় গাছ কাটছে। পরে এসব গাছ বিভিন্ন পথে পাচার করা হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বনাঞ্চলে গাছ চুরি ও পাচারের ঘটনা ঘটলেও প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। বন বিভাগ একাধিকবার মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নিলেও বন উজাড় পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে শালটিলা বিট কর্মকর্তা মোহাইমিনুল ইসলাম সানি বলেন,
“ফুলছড়ি ক্যাম্পের অধীন কাপাই চা-বাগানের পাশের ১৫ নম্বর সেকশন থেকে বিভিন্ন জাতের গাছ চুরি হয়েছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র সাতছড়ি, কেমলাছড়া ও শালটিলা এলাকার বন ও পাহাড়ি অঞ্চল থেকে গাছ কেটে পাচার করছে। বিষয়টি নিয়ে বন বিভাগ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুদ্দুস মিয়া। তিনি বলেন, “দুটি ডিআই পিকআপ গাড়ির মালিক আমি। তবে গাছ পাচারের সঙ্গে আমি জড়িত নই। উল্লেখ্য, কুদ্দুস মিয়া বন মামলা সিআর-৪৩/২৬-এর প্রধান আসামি। জামিনে থাকা অবস্থায় তার বিরুদ্ধে নতুন করে গাছ কাটা ও পাচারের অভিযোগ ওঠায় এলাকায় আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পরিবেশ সচেতন মহল বলছে, সাতছড়ি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় গাছ চুরি ও পাচার বন্ধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে বনাঞ্চলে নিয়মিত নজরদারি ও টহল জোরদারের দাবিও জানিয়েছেন তারা।