নিজস্ব প্রতিবেদক: হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটা ও চুরিকৃত গাছ কেনাবেচার অভিযোগে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ২টি মামলা করেছে বন বিভাগ।
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬ চুনারুঘাট থানায় মামলাটি করেন সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন। মামলা নম্বর- ৩৪।
আইন,১৯২৭ সালের বন আইন ২০০০ সালে সংশোধিত এর ২৬(১ক)-এর খ ও ঘ ধারা।
২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৫ মে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পাইকপাড়া ইউনিয়নের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটা এবং চুরিকৃত গাছ কেনাবেচা করা হয়।
মারুফ মিয়া (৩০),পিতা: মৃত শামসুদ্দিন মিয়া, গ্রাম: ময়নাবাদ, দেওরগাছ ইউনিয়ন। পদ: চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব।
শফিকুল ইসলাম আবুল, সাতছড়ি উদ্যানের সিএমসি সভাপতি ও শাহজাহানপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা
শফিক মিয়া মহলদার, চুনারুঘাট উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক
জাহাঙ্গীর খান,উপজেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক
করিম সরকার,উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক
মিজানুর রহমান সোহাগ,মিরাশী ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক
গাছ ব্যবসায়ী, মুনায়েম, কালা মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস, জসিম, তাহির মিয়া, আব্দুল জলিল মিয়া, রফিক মিয়া, হেলাল মিয়া, মকবুল মিয়া ও মাসুম বিল্লাহ।
এজাহারে চুরিকৃত গাছ কেনার অভিযোগে মারুফ মিয়া, জাহাঙ্গীর খান, শফিক মিয়া মহলদার, করিম সরকার, বেলাল, জমরুত, সোহেল ও মিজানুর রহমান সোহাগের নামও রয়েছে।
একই দিনে রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে গাছ চুরি ও বিক্রির অভিযোগে আরও ৪২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন অভয়ারণ্যের বন কর্মকর্তা এইচ এম এরশাদ।
রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গোয়েন্দা সংস্থার গোপনীয় প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলাটি করা হয়েছে। অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গাছ কেটে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ক্ষতি করছেন।
চুনারুঘাট থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে মামলাটি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার প্রায় এক মাস পর এ মামলা করা হলো।
সাতছড়ি ও রেমা-কালেঙ্গা দেশের গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ বনাঞ্চল। এসব এলাকায় অবৈধভাবে গাছ কাটা অব্যাহত থাকলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করেন পরিবেশবিদরা।
পৃথক দুটি মামলার ফলে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অবৈধ গাছ কাটা ও পাচারের বিরুদ্ধে বন বিভাগ ও পুলিশের অভিযান আরও জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।